তাহাজ্জুদ পড়ছেন-তবুও আসমান থেকে ফয়সালা আসছে না কেন?

রাত জেগে কাঁদছেন, তাহাজ্জুদ পড়ছেন-তবুও আসমান থেকে ফয়সালা আসছে না কেন? কোথাও কি কোনো বড় ভুল রয়ে যাচ্ছে?

প্রিয় দ্বীনি ভাই ও বোনেরা, তাহাজ্জুদ হলো মুমিনের সবথেকে শক্তিশালী হাতিয়ার। রাসূলুল্লাহ বলেছেন, রাতের শেষ প্রহরে মহান আল্লাহ দুনিয়ার আকাশে নেমে আসেন এবং ঘোষণা করেন- "কে আছো বিপদগ্রস্ত? আমি তাকে উদ্ধার করবো। কে আছো অভাবী? আমি তাকে স্বচ্ছলতা দেব।" (সহীহ বুখারী)

কিন্তু আমরা কি ভেবে দেখেছি, এত কান্নার পরেও কেন আমাদের দোয়া আরশ পর্যন্ত পৌঁছাচ্ছে না? কেন মাঝপথে আটকে যাচ্ছে? হাদীসের আলোকে উলামায়ে কেরাম এমন ২ শ্রেণীর মানুষের কথা বলেছেন, যাদের দোয়া শত কান্নাকাটির পরেও কবুল হয় না যতক্ষণ না তারা খাঁটি তওবা করে।


১. অবৈধ সম্পর্ক বা জেনার ভয়াবহতা:

সবচেয়ে নিকৃষ্ট পাপগুলোর মধ্যে একটি হলো জেনা বা অবৈধ সম্পর্ক। বর্তমান সময়ে আমরা 'প্রেমের সম্পর্ক' বা 'হারাম রিলেশন'-কে খুব সাধারণ মনে করি। মনে রাখবেন, যার সাথে আপনার বিয়ে বৈধ, তার সাথে বিয়ের আগে কথা বলা, দেখা করা বা চ্যাটিং করা-সবই জেনার অন্তর্ভুক্ত।


অনেকেই দীর্ঘ বছর হারাম সম্পর্কে লিপ্ত থেকে সেই মানুষটিকে 'জীবনসঙ্গী' হিসেবে পাওয়ার জন্য তাহাজ্জুদে কাঁদেন। এটি আল্লাহর সাথে উপহাসের শামিল! আপনি আল্লাহর নাফরমানি করে আল্লাহর কাছেই রিযিক (জীবনসঙ্গী) চাইছেন? শয়তান আপনার সামনে এই পাপকে সুশোভিত করে রাখছে। জেনার অভিশাপ মানুষের দোয়া কবুলের পথে সবথেকে বড় দেয়াল হয়ে দাঁড়ায়।


২. মানুষের সম্পদ আত্মসাৎ ও জুলুম:

মানুষের সম্পদ অবৈধভাবে ভোগ করা, লুটপাট, চাঁদাবাজি বা কাউকে ঠকানো-এটি এমন এক গুনাহ যা আল্লাহ সহজে ক্ষমা করেন না। একে বলা হয় 'হক্কুল ইবাদ' বা বান্দার হক। আপনি যদি অন্যের মনে কষ্ট দিয়ে বা অন্যের হক নষ্ট করে রাতভর সিজদায় পড়ে থাকেন, তবে সেই দোয়া আসমানে উঠবে না যতক্ষণ না আপনি সেই পাওনা পরিশোধ করছেন এবং ওই ব্যক্তির কাছে ক্ষমা চাচ্ছেন।


আপনার প্রতি নসিহত:

হয়তো আপনি ভাবছেন, "আমি তো দোয়া করছি, তবুও আল্লাহ কেন শুনছেন না?" দোষ আল্লাহর নয়, বরং দোষ আমাদের সেই গুনাহের যা আমরা ছাড়তে পারছি না।


মুক্তির উপায় কী?

খালেস তওবা: আজই সেই হারাম সম্পর্ক ছিন্ন করুন। আল্লাহকে বলুন- "হে আল্লাহ! আমি ভুল পথে ছিলাম, আপনি আমাকে হেদায়েত দিন।"

দান-সদকাহ: দান আল্লাহর রাগকে প্রশমিত করে। বেশি বেশি দান করুন এবং মানুষের হক ফিরিয়ে দিন। ধৈর্য: তওবা করার পর ধৈর্য ধরুন। আল্লাহ সবরকারীদের সাথে আছেন।

নিশ্চয়ই আল্লাহ পরম দয়ালু। আপনি যদি আজ খাঁটি মনে তওবা করে জেনার পথ এবং হারামের পথ ত্যাগ করেন, তবে আপনার সেই হাত আর খালি ফিরবে না ইনশাআল্লাহ।

আল্লাহ আমাদের সবাইকে সব ধরণের প্রকাশ্য ও গোপন ফিতনা থেকে হেফাজত করুন। আমীন। দ্বীনি দাওয়াত ছড়িয়ে দিতে পোস্টটি শেয়ার করুন।

Previous Post
No Comment
Add Comment
comment url