পর্দানশীল অনেক নারীকেই জীবনে অন্তত একবার একটি অপ্রীতিকর প্রশ্নের সম্মুখীন হতে হয়!

পর্দানশীল অনেক নারীকেই জীবনে অন্তত একবার একটি অপ্রীতিকর প্রশ্নের সম্মুখীন হতে হয়— "তোমার মেন্টালিটি এমন কেন? তুমি কি মনে করো সব পুরুষই তোমার দিকে বাজেভাবে তাকায়?" এই প্রশ্নের সুরে এমন এক প্রচ্ছন্ন অভিযোগ থাকে, যেন পর্দা করা মানেই সামনের পুরুষটির চরিত্রকে কাঠগড়ায় দাঁড় করানো। একইভাবে, কোনো পুরুষ যখন দৃষ্টি অবনত করেন, তখন ভাবা হয় তিনি হয়তো সামনের নারীকে অপমান করছেন। প্রশ্ন হলো, পর্দার বিধান কি আসলেই অপরপক্ষের চারিত্রিক মানদণ্ডের ওপর নির্ভরশীল?

পর্দার বিধান যখন নাজিল হয়, তখন ইসলামের প্রথম সম্বোধন ছিল ইতিহাসের সর্বশ্রেষ্ঠ প্রজন্ম—সাহাবীগণের প্রতি। সাহাবীগণ ছিলেন চারিত্রিক দিক থেকে পৃথিবীর শ্রেষ্ঠ আদর্শ। অথচ সেই পবিত্র হৃদয়ের পুরুষ সাহাবীগণ নারী সাহাবীদের সামনে দৃষ্টি অবনত করে চলতেন এবং নারী সাহাবীগণ নিজেদের জিলবাবে আবৃত রাখতেন।


যদি অপরপক্ষের চরিত্র মন্দ হওয়াটাই পর্দা করার কারণ হতো, তবে আল্লাহ তাআলা তাঁর সবচেয়ে প্রিয় বান্দাদের ওপর এই বিধান ফরজ করতেন না। তিনি হয়তো বলতেন, এই বিধান কেবল দুশ্চরিত্রদের জন্য। কিন্তু আল্লাহ তাআলা সূরা নূরের ৩০ ও ৩১ নম্বর আয়াতে স্পষ্ট করে দিয়েছেন যে, এই বিধান মুমিন পুরুষ ও মুমিন নারীদের জন্য—যাঁদের চরিত্র পবিত্র ও নিষ্কলুষ।


পর্দা কোনো নির্দিষ্ট ব্যক্তির চরিত্রের ওপর করা কোনো ‘রিভিউ’ বা মন্তব্য নয়। এটি আল্লাহ তাআলার প্রতি একনিষ্ঠ আনুগত্যের বহিঃপ্রকাশ। একজন নারী যখন হিজাব বা নিকাব পরিধান করেন, তখন তিনি সামনের পুরুষটির চরিত্র বিচার করেন না; বরং তিনি তাঁর স্রষ্টার দেওয়া একটি সীমানা (Boundary) রক্ষা করেন। ঠিক তেমনি, একজন পুরুষ যখন দৃষ্টি অবনত করেন, তখন তিনি সামনের নারীকে তুচ্ছজ্ঞান করেন না, বরং তিনি নিজের নফস এবং রবের দেওয়া বিধানের প্রতি শ্রদ্ধাশীল থাকেন।


পশ্চিমা চিন্তাধারায় প্রভাবিত ব্যক্তিরা প্রায়ই মনে করেন, পর্দা নারীর পিছিয়ে পড়া বা পুরুষকে সন্দেহের চোখে দেখার প্রতিফলন। অথচ ইসলামের দৃষ্টিতে পর্দা হলো সম্মান ও মর্যাদার প্রতীক। এটি একটি সামাজিক ভারসাম্য রক্ষা করে এবং নারী-পুরুষ উভয়কে একটি নিরাপদ মানসিক বলয় উপহার দেয়। শ্রেষ্ঠ চরিত্রের অধিকারী নারী ও পুরুষগণ আমৃত্যু যে বিধান মেনে চলেছেন, তা আধুনিক যুগে পালন করার অর্থ অপরপক্ষকে অপমান করা নয়; বরং পারস্পরিক মর্যাদা রক্ষা করা।


পর্দা হলো হৃদয়ের পবিত্রতা অর্জনের একটি মাধ্যম। এটি কোনো ব্যক্তির বিরুদ্ধে প্রতিরোধ নয়, বরং আল্লাহর নির্দেশের প্রতি বিনম্র আত্মসমর্পণ। যারা পর্দানশীল নারীকে কটাক্ষ করে প্রশ্ন করেন, তারা আসলে পর্দার অন্তর্নিহিত সৌন্দর্য ও এর আধ্যাত্মিক গুরুত্ব উপলব্ধি করতে ব্যর্থ হন। স্রষ্টার প্রতি ভালোবাসা আর নিজের মর্যাদাবোধ থেকেই পর্দার জন্ম, কারো চরিত্রকে ছোট করার জন্য নয়। 

Next Post Previous Post
No Comment
Add Comment
comment url