শয়তানকে ধোঁকা দেওয়ার জাদুকরী কৌশল!

আমরা কি কখনো ভেবেছি শয়তানকে হারিয়ে দেওয়া কতটা সহজ? এর জন্য কোনো বিশাল যুদ্ধের প্রয়োজন নেই, প্রয়োজন শুধু একটু গতি আর তাৎক্ষণিক সিদ্ধান্ত।


এই জীবন দর্শনটি আসলে একটি 'স্পিরিচুয়াল গেম'। এই খেলায় শয়তান সবসময় হারে, আর আল্লাহর সন্তুষ্টির জয় হয়। শয়তানের সবচেয়ে বড় অস্ত্র হলো "পরে করব" বলে কাজ পিছিয়ে দেওয়া। আর আমাদের অস্ত্র হবে— "হঠাৎ বা এখনই"।


চলুন দেখি এই 'গেম' কীভাবে খেলবেন:


বাথরুম থেকে বের হওয়ার সময় হাত ধুতে ধুতে কোনো চিন্তা না করেই হঠাৎ অজু করে নিন। শয়তান বলার সুযোগই পাবে না যে, "পরে করলেও তো হয়"। আপনার পাপগুলো ঝরে যাবে আর শয়তান মাথায় হাত দিয়ে বসে থাকবে।


ঘরের মানুষকে হুট করে দেখে মুচকি হাসুন। কোনো কারণ ছাড়াই তাদের জন্য মনে মনে দোয়া করে দিন। এটিও একটি সাদকা, যা শয়তানকে হিংসায় জ্বালিয়ে দেয়।


ঘরে চলাফেরা করতে করতে হঠাৎ জায়নামাজে দাঁড়িয়ে যান। দুই রাকাত নফল পড়ে নিন। শয়তানকে ভাবার সুযোগই দেবেন না।


মোবাইল স্ক্রল করতে করতে হুট করে কয়েকটা আয়াত পড়ে নিন। তসবীহ পড়ার কথা মনে এলে "অবসর সময়ে পড়ব" না ভেবে ওই মুহূর্তেই পড়া শুরু করুন।


দান করার চিন্তা মনে আসবামাত্র পকেটে যা আছে তা দিয়ে দিন। "পরে দেব" মানেই শয়তানের সুযোগ।


কারো প্রতি মনের কোণে হিংসা উঁকি দিলেই সাথে সাথে তার জন্য আল্লাহর কাছে শ্রেষ্ঠ নেয়ামত চেয়ে দোয়া করুন। এতে মনও পরিষ্কার হবে আর শয়তানও নিরাশ হবে।


আজান শোনা মাত্রই সব কাজ ফেলে উঠে দাঁড়ান। মনে মনে বলুন— "লাব্বাইকা ইয়া রব্বি (হে আমার প্রভু, আমি হাজির)"।


কোনো কারণ ছাড়াই হুট করে হেসে বলুন— "আলহামদুলিল্লাহ"। এই এক শব্দেই শয়তানের মেরুদণ্ড ভেঙে যায়।


পুরনো কোনো কষ্টের কথা মনে পড়লে সাথে সাথে বলে দিন— "আল্লাহ, আপনার খুশির জন্য ওকে মাফ করে দিলাম"। এটি নফসের ওপর সবচেয়ে বড় আঘাত।


কাজের ভিড়ে হঠাৎ গিয়ে মা-বায়ের হাত জড়িয়ে ধরুন বা কপালে চুমু খান। কোনো উপলক্ষ ছাড়াই তাদের জড়িয়ে ধরুন। এই দোয়াগুলো জান্নাতের দরজা খুলে দেবে।


সবচেয়ে সুন্দর মুহূর্ত হলো কাজের মাঝে হঠাৎ আকাশ পানে চেয়ে বা চোখ বুজে বলা— "আল্লাহ! আমি আপনাকে অনেক ভালোবাসি, আমাকে শয়তানের হাত থেকে বাঁচিয়ে রাখুন।"


শয়তান সবসময় আমাদের নমনীয়তার সুযোগ নেয়। যখনই আপনি কোনো কাজ "হঠাৎ" করে ফেলেন, শয়তান সেটিকে পিছিয়ে দেওয়ার বা নষ্ট করার কোনো 'স্ক্রিপ্ট' তৈরি করার সুযোগ পায় না।


তাই আজ থেকেই এই খেলা শুরু করুন। আপনার প্রতিটি "হঠাৎ করা নেক আমল" আপনাকে আল্লাহর আরশের আরও কাছে নিয়ে যাবে। 

Next Post Previous Post
No Comment
Add Comment
comment url