এই কথাগুলো যদি কেউ ছোটবেলায় বলতো।

১. তুমি যেমন, তেমনই তুমি মূল্যবান

ছোটবেলায় আমাদের প্রায়ই তুলনা করা হতো—কার রেজাল্ট ভালো, কে বেশি সুন্দর, কে বেশি চুপচাপ, কে বেশি ভদ্র। কিন্তু কেউ বলেনি, “তুমি যেমন, তেমনই তুমি যথেষ্ট।”

এই কথাটা না শোনার কারণে আমরা বড় হয়েও নিজেকে কম ভাবি। নিজের যোগ্যতা, নিজের চেষ্টা, নিজের আলাদা সত্তাকে তুচ্ছ করি। অথচ প্রত্যেক মানুষ আলাদা ক্ষমতা নিয়ে জন্মায়। কেউ পড়াশোনায় ভালো, কেউ কাজে, কেউ সম্পর্ক বোঝে, কেউ নেতৃত্ব দিতে পারে। নিজেকে গ্রহণ করতে শেখালে আত্মবিশ্বাস তৈরি হতো, হীনমন্যতা নয়।

---


২. ভুল করা মানে তুমি খারাপ নও, তুমি শেখার পথে আছো

ভুল করলেই বকা, মার, অপমান—এটাই আমরা বেশি পেয়েছি।

কিন্তু কেউ বলেনি, ভুল না করলে শেখা যায় না।

এই ভয়টাই বড় হয়ে আমাদের ঝুঁকি নিতে দেয় না। আমরা নতুন কিছু শুরু করতে ভয় পাই, কারণ ব্যর্থ হলে কী হবে সেই আতঙ্ক কাজ করে। যদি ছোটবেলায় শেখানো হতো—ভুল মানেই শেষ না, ভুল মানেই শিক্ষা—তাহলে আমরা আরও সাহসী, আরও উদ্ভাবনী মানুষ হতে পারতাম।


---


৩. সবাই তোমাকে পছন্দ করবে—এটা অসম্ভব

এই সত্যটা না জানার কারণে আমরা সারাজীবন মানুষ খুশি করতে গিয়ে নিজেকে হারাই।

কেউ যদি অপছন্দ করে, আমরা ভাবি নিশ্চয়ই আমার দোষ আছে।

কিন্তু বাস্তবতা হলো—এই পৃথিবীতে এমন কেউ নেই যাকে সবাই ভালোবাসে। নিজের সীমা টানা, “না” বলা, নিজের মত প্রকাশ করা—এসব শেখানো হয়নি বলেই আমরা মানসিকভাবে ক্লান্ত হয়ে পড়ি। ছোটবেলায় যদি বলা হতো, নিজেকে ঠিক রেখে চলাই আসল সাফল্য, তাহলে আত্মসম্মানটা আরও শক্ত হতো।


---


৪. আজকের কষ্টটাই একদিন তোমার শক্তি হবে

শৃঙ্খলা, নিয়ম, পরিশ্রম—এই শব্দগুলো আমাদের কাছে শাস্তির মতো লাগতো।

কিন্তু কেউ বোঝায়নি, এগুলোই ভবিষ্যতের ভিত।

আজ একটু কষ্ট করলে কাল অন্যের কাছে হাত পাততে হয় না। আজ নিজেকে গড়লে কাল পরিস্থিতি তোমাকে ভাঙতে পারে না। ছোটবেলায় যদি এই দৃষ্টিভঙ্গি দেওয়া হতো, তাহলে আমরা কষ্টকে ভয় না পেয়ে তাকে সম্মানের পথে ধাপ হিসেবে নিতাম।


---


৫. টাকা দরকার, কিন্তু চরিত্র তার চেয়েও দামি

অনেক সময় আমাদের শুধু শেখানো হয়েছে—টাকা কামাও, প্রতিষ্ঠিত হও।

কিন্তু শেখানো হয়নি—কেমন মানুষ হওয়া দরকার।

অথচ টাকা আসে-যায়, অবস্থান বদলায়, কিন্তু চরিত্র থাকলে মানুষ সব জায়গায় সম্মান পায়। যদি ছোটবেলায় সততা, ন্যায়, দায়িত্ববোধকে গুরুত্ব দেওয়া হতো, তাহলে সমাজে এত অবিশ্বাস, প্রতারণা, ভাঙন থাকতো না।


---


৬. রাগের মাথায় নেওয়া সিদ্ধান্ত জীবন বদলে দিতে পারে

রাগ হলে কীভাবে চুপ থাকতে হয়, কীভাবে নিজেকে সামলাতে হয়—এগুলো কেউ শেখায় না।

ফলে আমরা আবেগে ভুল কথা বলি, ভুল সিদ্ধান্ত নিই, সম্পর্ক নষ্ট করি।

যদি ছোটবেলায় শেখানো হতো—রাগ আসবে, কিন্তু রাগের ওপর তুমি নিয়ন্ত্রণ রাখবে—তাহলে অনেক জীবন ভেঙে যেত না, অনেক সম্পর্ক বেঁচে যেত।


---


৭. পরিবার চিরদিন থাকবে না

এই কথাটা আমরা বুঝি তখনই, যখন সময় শেষ হয়ে যায়।

মা-বাবার বকা তখন বিরক্তিকর লাগে, কিন্তু পরে বোঝা যায়—ওটাই ছিল নিঃস্বার্থ ভালোবাসা।

যদি ছোটবেলায় শেখানো হতো, সময় থাকতে ভালোবাসা প্রকাশ করো, তাহলে আজ এত আফসোস, এত না বলা কথা জমে থাকতো না।


---


৮. কেউ এসে তোমার জীবন বদলে দেবে না

আমরা ছোটবেলা থেকেই অপেক্ষা করতে শিখি—কেউ সাহায্য করবে, কেউ সুযোগ দেবে।

কিন্তু সত্যটা হলো—নিজেকে না বদলালে কিছুই বদলায় না।

যদি ছোটবেলায় শেখানো হতো, নিজেই নিজের দায়িত্ব নিতে হয়, তাহলে আমরা অভিযোগ কম করতাম, চেষ্টা বেশি করতাম।


---


৯. তোমার স্বপ্ন ছোট হলেও সেটা মূল্যবান

সব স্বপ্ন বড় হতে হবে—এই চাপটা অনেককে ভেঙে দেয়।

কিন্তু শান্ত জীবন, সৎ উপার্জন, মানসিক স্বস্তি—এগুলোও স্বপ্ন।

যদি ছোটবেলায় শেখানো হতো, নিজের স্বপ্নকে সম্মান করতে, তাহলে আমরা অন্যের চোখে বড় হতে গিয়ে নিজের চোখে ছোট হতাম না।


---


১০. ভালো মানুষ হওয়া দুর্বলতা নয়

এই দুনিয়ায় চালাক হওয়াকে বুদ্ধি বলা হয়, কিন্তু ভালো হওয়াকে দুর্বলতা।

এই ভুল শিক্ষা আমাদের হৃদয়কে কঠিন করে তোলে।

যদি ছোটবেলায় শেখানো হতো—ভালো থাকা মানে শক্ত থাকা—তাহলে মানুষ এত নির্দয় হতো না, সম্পর্ক এত ভাঙতো না।


---


এই কথাগুলো যদি কেউ ছোটবেলায় বলতো,তাহলে হয়তো আমরা কম ভাঙতাম,কম হারাতাম,

আর নিজের সঙ্গে যুদ্ধ না করে জীবনটাকে একটু সহজ করে বাঁচতে পারতাম।

Next Post Previous Post
No Comment
Add Comment
comment url