হিংসুক সহকর্মী থেকে নিজেকে রক্ষা করার উপায়!

অফিসে হিংসুক বা ঈর্ষান্বিত সহকর্মী থাকা খুবই সাধারণ ব্যাপার। এটা প্রায়শই তাদের নিজেদের অসুরক্ষা বা নিরাপত্তাহীনতা থেকে উদ্ভূত হয়, আপনার সাফল্য বা প্রশংসা দেখে তারা বিরক্ত বোধ করেন। কিন্তু এতে আপনার কাজ বা মানসিক শান্তি নষ্ট হতে দেবেন না। নিচে কিছু বাস্তবসম্মত উপায় দেওয়া হলো যা আপনাকে সাহায্য করবে:


1. পেশাদারিত্ব বজায় রাখুন  

   সবসময় শান্ত, বিনয়ী এবং পেশাদার আচরণ করুন। তাদের নেগেটিভ মন্তব্য বা আচরণে প্রতিক্রিয়া দেখাবেন না। উপেক্ষা করা প্রায়শই সবচেয়ে কার্যকরী অস্ত্র—এতে তারা বুঝতে পারবে যে তাদের চেষ্টা ব্যর্থ হচ্ছে।


2. সাফল্য নিয়ে অতিরিক্ত শো-অফ করবেন না  

   প্রমোশন বা প্রশংসা পেলে খুশি হোন, কিন্তু অফিসে সবার সামনে বারবার বলে বেড়াবেন না। চুপচাপ কাজে মন দিন। এতে হিংসার আগুনে ঘি পড়বে না।


3. সত্যিকারের প্রশংসা করুন

   হিংসুক সহকর্মীর কোনো ভালো কাজ দেখলে আন্তরিকভাবে প্রশংসা করুন। এতে তারা নরম হতে পারে এবং সম্পর্ক উন্নত হতে পারে। কিন্তু জোর করে করবেন না, সত্যিকারের হতে হবে।


4. সবকিছু ডকুমেন্ট করুন  

   ইমেইল, চ্যাট বা কাজের রেকর্ড রাখুন। যদি তারা আপনার ক্রেডিট নেওয়ার চেষ্টা করে বা মিথ্যে অভিযোগ করে, তাহলে প্রমাণ থাকবে। এতে আপনি নিজেকে সুরক্ষিত রাখতে পারবেন।


5. দূরত্ব বজায় রাখুন

   কাজের বাইরে অপ্রয়োজনীয় কথাবার্তা বা ব্যক্তিগত তথ্য শেয়ার করবেন না। শুধু কাজ-সম্পর্কিত যোগাযোগ রাখুন।


6. নিজের কাজে ফোকাস করুন

   তাদের হিংসাকে ব্যক্তিগতভাবে নেবেন না—এটা তাদের সমস্যা, আপনার নয়। নিজের লক্ষ্য, উন্নতি এবং ভালো পারফরম্যান্সে মন দিন। আপনার কাজ নিজেই আপনাকে রক্ষা করবে।


7. প্রয়োজনে উর্ধ্বতনদের জানান  

   যদি হিংসা এতটাই বেড়ে যায় যে আপনার কাজ বা মানসিক স্বাস্থ্যের ক্ষতি হচ্ছে (যেমন: গুজব ছড়ানো, ক্রেডিট চুরি), তাহলে বস বা এইচআর-এর কাছে শান্তভাবে বিষয়টি তুলে ধরুন। প্রমাণসহ বলুন।


মনে রাখবেন, হিংসুক মানুষের আচরণ পরিবর্তন করা কঠিন, কিন্তু আপনি নিজেকে নিয়ন্ত্রণ করতে পারেন। ধৈর্য ধরে এগোলে আপনি জয়ী হবেন। যদি চাপ বেশি হয়, তাহলে বাইরের বন্ধু বা পরিবারের সঙ্গে কথা বলে মানসিক সাপোর্ট নিন। শুভকামনা!

Previous Post
No Comment
Add Comment
comment url